
অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে পড়ে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক বর্তমানে লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মুক্তির জন্য পরিবারের কাছে জনপ্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে সেই ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার।
পরিবারগুলোর দাবি, ৮-৯ মাস আগে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন এসব যুবক। কিন্তু ইতালির পরিবর্তে তাদের লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানান, সম্পত্তি বিক্রি ও ঋণ করে বিদেশে পাঠানোর টাকা জোগাড় করেছিলেন তারা। এখন নির্যাতনের ভিডিও দেখে সন্তানদের জীবিত ফেরানোর আকুতি জানাচ্ছেন। একটি পরিবারের দাবি, তাদের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে এবং মরদেহ দেশে আনতেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছে দালাল চক্র।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দালালদের কেউ এলাকায় নেই বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে লিখিত আবেদন করে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
