চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা দিয়েছে শয্যাসংকট। অনেক শিশু জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
চমেক হাসপাতালের হাম ব্লকে আক্রান্ত শিশুদের স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। শয্যা সংকটে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এক শয্যায় তিন থেকে চারজন শিশুকে থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক রোগীর বাবা আরাফ। তাঁর এক বছর বয়সী সন্তানকে তিন দিন আগে ভর্তি করা হয়েছে। জ্বর কমলেও অন্যান্য সমস্যা রয়ে গেছে।

চমেক হাসপাতালে হামের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার বিশেষায়িত ওয়ার্ড, ১০ শয্যার পিএসইউ ও ১৬টি আইসোলেশন শয্যা রয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে গত শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর ও ১৫ উপজেলায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৮৩১ জন। গত রোববার ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। এ পর্যন্ত ৮৩৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ হাজার ৫২২ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০৯ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৫ জন এবং হাম শনাক্ত হওয়ার পর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষার জন্য ঢাকায় নমুনা পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার ৪৯১টি।
