চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যে জাহাজ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, সেটিকে ভাঙার জন্য নিরাপদ হিসেবে সনদ দিয়েছে সরকারি চারটি সংস্থা ও সরকার নিয়োজিত বেসরকারি একটি সেফটি এজেন্সি। এর বাইরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডের (বিএসআরবি) অনুমোদনও ছিল।

গত বছরের ১১ জুলাই এমটি রাসি নামের প্রায় ৯৪ হাজার টন ওজনের জাহাজটি পরিদর্শন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, চট্টগ্রাম ও বেসরকারি শিপ স্ট্রিপের প্রতিনিধিরা। এর পরের মাসে সেটিকে নিরাপদ হিসেবে ভাঙার সনদ দেওয়া হয়। জাহাজটি কীভাবে ভাঙা হবে, তার নকশা করে দেয় শিপ স্ট্রিপ।

১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিক মারা যান। তাঁদের মৃত্যুর কারণ হাইড্রোজেন সালফাইড বলে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। হাইড্রোজেন সালফাইড বর্ণহীন, বিষাক্ত ও জ্বলনশীল গ্যাস। তবে গত বছরের পরিদর্শন প্রতিবেদনে জাহাজটিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর—এমন পদার্থের কথা উল্লেখ নেই। বিপজ্জনক পদার্থের কথা উল্লেখ ছিল না জাহাজ আমদানির সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া আইএইচএম (জাহাজের কাঠামোয় থাকা বিপজ্জনক পদার্থ) তালিকাতেও।
