৯৮১ দিন পর ব্রাজিল দলে ফিরেই আবেগে ভাসলেন নেইমার
প্রায় তিন বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের এই মুহূর্তটি শুধু ফুটবলের নয়, ছিল আবেগ, ভালোবাসা এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের এক স্মরণীয় অধ্যায়।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার পরিবর্তে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বদলির ঘোষণা হতেই গ্যালারিজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় তারকাকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখে আবেগাপ্লুত হন সমর্থকরাও।
মাঠে নেমে খুব বেশি সময় না পেলেও ব্রাজিলের ৩-০ গোলের নিশ্চিত জয়ের অংশ হতে পেরে সন্তুষ্ট ছিলেন নেইমার। তবে ম্যাচ শেষে দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে তিনি গ্যালারির দিকে ছুটে যান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দি এবং বড় ছেলে ডেভি লুকা। বাবার কাছে যাওয়ার সময় নিরাপত্তারক্ষীদের বাধার মুখে পড়লেও পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেলেকে যেতে দেওয়া হয়। এরপর বাবা-ছেলের আবেগঘন আলিঙ্গনের দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে স্পর্শ করে।
ম্যাচ শেষে নেইমার বলেন, ‘আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সবাই কাঁদছিল, হাসছিল এবং আনন্দ করছিল। এটি ছিল জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল আবার ব্রাজিল দলে ফেরা এবং বিশ্বকাপে খেলা। এই জার্সি পরা সবসময়ই আমার কাছে গর্বের বিষয়। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান।’
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেইমার বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ানদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই পথটা সহজ ছিল না, কিন্তু তাদের পাশে পেয়েই আমি আবার ফিরে আসতে পেরেছি।’
দীর্ঘ পুনর্বাসন ও কঠিন সময় পার করে জাতীয় দলে নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি বিশ্বকাপের আগে সেলেসাওদের জন্যও বড় এক সুখবর।
