বিশ্বকাপে গিয়ে বাবা হলেন কিম, তবু মন পড়ে আছে নবজাতকের কাছে
পেশাদার ফুটবলারদের জীবন অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্তের গল্প। একদিকে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন, অন্যদিকে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় পারিবারিক মুহূর্ত। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষক কিম সেউং-গিউকে বেছে নিতে হয়েছে দেশের দায়িত্বকেই।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য বর্তমানে মেক্সিকোতে দলের বেজক্যাম্পে অবস্থান করছেন ৩৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। ঠিক এমন সময়েই জন্ম নিয়েছে তাঁর প্রথম সন্তান, একটি কন্যাশিশু। কিন্তু হাজার মাইল দূরে থাকায় সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে পারেননি তিনি।

আগামী বৃহস্পতিবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে দক্ষিণ কোরিয়া। গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা ও সহ-আয়োজক মেক্সিকো। দলের হয়ে ৮৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা কিমের একাদশে থাকার সম্ভাবনাও বেশ জোরালো।
মেক্সিকোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবেগঘন কণ্ঠে কিম বলেন, “সন্তানের জন্মের সময় আমি স্ত্রীর পাশে থাকতে পারিনি, এর জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত। আমি এখান থেকে দেশের জন্য দারুণ কিছু অর্জন উপহার হিসেবে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।”
তবে কিম জানেন, বয়সের কারণে এটাই হতে পারে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। তিনি বলেন, “আগের প্রতিটি বিশ্বকাপেই ভেবেছি, এটাই হয়তো শেষ। কিন্তু এখন যে বয়সে পৌঁছেছি, তাতে সত্যিই মনে হচ্ছে এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ।”
প্রথম সন্তানের কান্না সরাসরি নয়, ফোনের ওপার থেকে শুনতে হয়েছে তাঁকে। তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে দেশের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে পারলে সেটিই হয়তো হবে তাঁর নবজাতক কন্যার জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপহার।
