জানা যায়, চট্টগ্রামে বুধবার পর্যন্ত ২২ শিশুর হাম শনাক্ত হয়। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮ জন আর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় ২৬২ জনের। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়ছে। বিশেষায়িত একটি শিশু হাসপাতাল থাকলে সাধারণ হাসপাতালে এ চাপটা কম হতো। চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্মসম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ‘জায়গা নির্ধারণ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ না হওয়াটা লজ্জার, দুঃখের। অথচ ঢাকায় অন্তত ১১টি বিশেষায়িত হাসপাতাল আছে। চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর হওয়ার পরও একটিও বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই।’ চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি অনেক আগের। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি আর এগোয়নি। কেবল এটির ডিপিপি তৈরি হয়েছিল। আর কোনো অগ্রগতি নেই।’ তিনিও মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামে একটি শিশু বিশেষায়িত হাসপাতাল জরুরি।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে ‘ফিজিক্যাল ফ্যাসিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট (পিএফডি)’ শীর্ষক অপারেশনাল প্ল্যানের আওতায় ২ একর জমিতে ২০০ শয্যার একটি করে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করে। এরপর সিভিল সার্জন কার্যালয় বিভিন্ন এলাকায় জায়গা খোঁজে। পরে বাকলিয়া মৌজার কর্ণফুলী সেতুসংলগ্ন একটি সরকারি জায়গা নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এর প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। কিন্তু ভূমির একটি অংশে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) কর্ণফুলী রিভার ফ্রন্ট রোড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ শাহ্ আমানত সেতুর সংযোগ সড়ক বাস্তবায়ন করায় তারা আপত্তি তোলে। ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর নির্ধারিত ভূমি থেকে শূন্য দশমিক ৫৪ একর বাদ দিয়ে ১ দশমিক ৪৬ একর জমিতে হাসপাতাল নির্মাণে অনাপত্তি দেয় চউক। এরই মধ্যে তৈরি করা হয় নকশাও। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া হয় অর্থ বরাদ্দ। কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জেলা প্রশাসন এ জায়গায় স্পোর্টস অ্যারেনা তৈরির ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি সিভিল সার্জন কার্যালয় জেলা প্রশাসককে ‘প্রস্তাবিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের ভূমিতে স্পোর্টস অ্যারেনা
তৈরি না করার জন্য’ অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়। বিষয়টি এখনো সেই পর্যায়ে।

জানা যায়, চট্টগ্রামে প্রতিনিয়তই বাড়ছে শিশু রোগী। কিন্তু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজারসহ আশপাশের জেলার মানুষকে নির্ভর করতে হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের ওপর। চমেক হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে অনুমোদিত শয্যা আছে ৩৪টি। অতিরিক্ত সংযুক্ত করা হয় ১০০ শয্যা।
