যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপ ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার পরিবর্তে দেশটিকে আরও কঠোর ও সংঘাতমুখী অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন ইতালির তুরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক লরেঞ্জো কামেল।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, ইরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা অনেক সময় উল্টো ফল দিয়েছে। মার্কিন ও পশ্চিমা চাপের কারণে তেহরান আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে।

ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনায় ইসরায়েলের ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন কামেল। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে ইসরায়েলের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চাইলেও তেলআবিবের অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি আশঙ্কা করেন, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পাশাপাশি লেবাননকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত তৈরি হলে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হলেও এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান আরও কঠোর অবস্থান নিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট জটিল হয়ে উঠতে পারে। ফলে মার্কিন চাপ ইরানকে নত করবে, নাকি আরও সক্রিয় ও সংঘাতমুখী করে তুলবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
