বিশ্বকাপে ভিএআর বিতর্ক থামছেই না, প্রশ্নে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা
বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ে বিতর্কও তত বাড়ছে। একের পর এক আলোচিত সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠেছে—কোন পরিস্থিতিতে ভিএআর হস্তক্ষেপ করবে, আর কোনটিতে করবে না। ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলছেন খেলোয়াড়, কোচ ও বিশ্লেষকরা।

ইংল্যান্ড-ঘানা, ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ও জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচে ভিএআরের একাধিক সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘানার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের এজরি কনসার ট্যাকলে পেনাল্টির দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঘানার কোচ কার্লোস কুইরোজ। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, “মনে হয় ভিএআর তখন কফি খেতে গিয়েছিল।”
অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের একটি গোল বাতিল এবং জার্মানি-ইকুয়েডর ম্যাচে আলেক্সান্দার পাভলোভিচের বিপজ্জনক ট্যাকলের পরও গোল বহাল থাকায় সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট এবং সাবেক ফরোয়ার্ড এলেন হোয়াইটও ওই সিদ্ধান্তগুলোর কড়া সমালোচনা করেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে ভিএআর ব্যবহারের হার (০.২৮) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (০.২৯) প্রায় সমান। তবে বিতর্কের মূল কারণ ব্যবহারের সংখ্যা নয়, বরং একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত।
‘সর্বনিম্ন হস্তক্ষেপে সর্বোচ্চ সুফল’—এই নীতিতে পরিচালিত হওয়ার কথা ভিএআরের। তবে বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেই লক্ষ্য পূরণে এখনও ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়ে গেছে।
