চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ছিঁচকে চুরি ও পাইরেসি প্রতিরোধে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বাহিনী জানিয়েছে, নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের ফলে বহির্নোঙরে অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সম্প্রতি তিনটি জাহাজে লুটের ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদের কিছু তথ্য সঠিক নয়। তার দাবি, দুটি জাহাজের ঘটনায় কোস্ট গার্ডকে দ্রুত জানানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনো মালামাল চুরি হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট জাহাজ কর্তৃপক্ষ বাহিনীকে No Objection Certificate (NOC) ও Letter of Appreciation প্রদান করেছে। অন্য জাহাজটির ক্ষেত্রে ঘটনার প্রায় সাত ঘণ্টা পর কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়, এরপর উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

তিনি আরও জানান, বন্দর কর্তৃপক্ষের বিধি অনুযায়ী জাহাজে অনুমোদিত ওয়াচম্যান থাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে তা ছিল না, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে ৩,৪৮৫টি টহল ও ১১২টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪ জন চোরাচালানকারী ও ছিঁচকে চোরকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ বিশেষ অভিযানে ১৬টি নৌযানসহ ৪১ জনকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জনবল ও সরঞ্জামের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকারের উদ্যোগে দুটি আধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজন এবং জনবল বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর আভিযানিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।
