দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বহুল আলোচিত এই চুক্তির খসড়ার ভাষা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির শব্দচয়ন ইচ্ছাকৃতভাবে এমন রাখা হয়েছে যাতে উভয় দেশই নিজ নিজ জনগণের কাছে এটিকে কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে কার্যকর হতে যাওয়া এই সমঝোতাকে অনেকেই চূড়ান্ত সমাধান নয়, বরং আলোচনার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক Mohammad Eslami বলেন, চুক্তির ভাষা যদি কঠোর ও একক ব্যাখ্যাযোগ্য হতো, তাহলে কোনও পক্ষই সমঝোতায় রাজি হতো না।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যু, ইরানি সম্পদের ভবিষ্যৎ এবং হরমুজ প্রণালীর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের জন্য ভবিষ্যৎ আলোচনার সুযোগ বজায় থাকবে এবং তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক চাপও কমবে।
অধ্যাপক এসলামী মনে করেন, এই চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো উভয় সরকারকে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ দেওয়া। ফলে ওয়াশিংটন যেমন এটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবে, তেমনি তেহরানও নিজেদের স্বার্থ রক্ষার দাবি করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, আপাতত সংঘাত থামানো এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এই চুক্তির প্রধান লক্ষ্য। আর সে কারণেই চুক্তির ভাষায় স্পষ্টতার চেয়ে কূটনৈতিক নমনীয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
