হামের তথ্য প্রকাশে অসঙ্গতির অভিযোগ

হামের তথ্য প্রকাশে অসঙ্গতির অভিযোগ, 

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্যে একাধিক অসঙ্গতি দেখা গেছে। সর্বশেষ সোমবার রাতে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীর তথ্য সংশোধন করা হয়। এতে জানা যায়, দীর্ঘ দেড় মাস ধরে রোগীর সংখ্যা ভুলভাবে বেশি দেখানো হচ্ছিল।

কুষ্টিয়া থেকে আসা হামে আক্রান্ত আট মাস বয়সী শিশু ইরফান আহমেদ ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। গত বৃহস্পতিবার তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইরফানের মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগে রাজশাহী বিভাগে মোট হামের রোগী দেখানো হয়েছিল ৯ হাজার ৪১৪ জন। পরে তা সংশোধন করে ৫ হাজার ১৫৯ জন করা হয়। সংখ্যাগত পুনরাবৃত্তির কারণে এ ভুল হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

তথ্য সংশোধনের ফলে দেশজুড়ে হামের উপসর্গযুক্ত মোট রোগীর সংখ্যাও কমে এসেছে। আগে যেখানে রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৮৪৬, সেখানে সংশোধিত হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে ৫৪ হাজার ৯১১ জনে।

পাঁচ মাস বয়সী যমজ রাইসা ও রুমাইসা। হাম–পরবর্তী জটিলতায়  রাইসা মারা গেছে। মা–বাবা এক মেয়ের মরদেহ এবং হামে আক্রান্ত আরেক মেয়েকে নিয়ে ফরিদপুরে ফিরে যাচ্ছেন।  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, মহামারি বা প্রাদুর্ভাবের সময় সঠিক ও নিয়মিত তথ্য জনগণের আস্থা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য মানুষের মধ্যে অনাস্থা ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের তথ্য হতে হবে পরিষ্কার, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও করোনা পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা থাকার পরও হামের তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী ও সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে না ওঠা দুঃখজনক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top